সোমবার , 17 ডিসেম্বর 2018

মৎস্য চাষীদের জন্য প্রয়োজনীয় টিপ্‌স

সফলভাবে মাছ চাষ করতে হলে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে-

  • মাছ চাষ হচ্ছে পুকুরে সঠিক পদ্ধতিতে মাছের খাবারের চাষ।
  • মৎস্য চাষীকে সর্বদা স্মরন রাখতে হবে যে, কম সার কম খাদ্য প্রয়োগ করে দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অধিক সফলতা অর্জন করা সম্ভব। মাছ চাষে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, মূল্যবান সার খাদ্য সরবরাহ এবং উন্নত প্রজাতির পোনা মাছ দিয়েও কাঙ্খিত মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে না যদি মাছ চাষ খামার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ এবং সৎ মনোযোগী ব্যক্তি নিয়োজিত না থাকে।
  • অজৈব সারকে (ইউরিয়া, টিএসপি) সরাসরি মাছের খাদ্য হিসেবে যুক্তিযুক্ত নহে। কারণ কোন মাছই সরাসরি এই অজৈব তথা রায়সানিক সারকে ক্ষেতে পারে না। তবে পুকুরে ইহা প্রয়োগ করলে যে সকল প্রাকৃতিক খাদ্য পানিতে উৎপাদিত হয় মাছ ঐ খাদ্য খেয়ে থাকে। এই জন্য অজৈব সারকে পরেক্ষ খাদ্য (Indriect Food) বলা হয়। অন্যদিকে জৈব সারকে সরাসরি খাদ্য হিসেবেও অভিহিত করা যায়, কারণ জৈব সারের মধ্যে অধিকাংশ সারকেই মাছ সরাসরি খেতে পারে বা খেয়ে থাকে। এই জন্য এই জাতীয় সারকে প্রত্যক্ষ খাদ্য (Direct Food) বলা হয়।
  • চালের কুঁড়ায় ১০-১৪% আমিষ, ভিটামিন (বি১,বি২ ও বি৬) এবং কিছু পাচকরস (Enzyme) থাকে। কুঁড়ার পাচকরস মাছের পরিপাক সহজতর করে। এটি মাছের জন্য একটি ভাল খাদ্য।
  • সরিষার খৈল-এ ৩০-৩২% আমিষ থাকে। এছাড়াও অর্ধেক পরিমানে স্নেহ পদার্থ থাকে। শুধু খৈল একটানা অধিক পরিমাণে মাছকে খাওয়ালে যকৃতে চর্বি জমে মাছ মারা যেতে পারে। এই জন্য খৈল অন্য খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হয়। কোন খাদ্যে ৪০% পযন্ত খৈল মেশানো যেতে পারে। তবে শুকনা খৈল ২০% এর বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • গমের ভূষি আঁশযুক্ত খাবার। এতে ১০-১৫% আমিষ থাকে চর্বির পরিমান কম থাকায় এটি খাদ্য হিসেবে চালের কুঁড়ার চেয়ে ভাল। গমের ভূষি মাছের অনেক রোগ নিয়ন্ত্রন করে। ভূট্টা উদ্ভিদ খাদ্যের মধ্যে মাছের সর্বোত্তম সম্পূরক খাদ্য। এতে আমিষ, শ্বেতসার, স্নেহ পদার্থ এবং ভিটামিন এ ও রয়েছে। ফিশমিলে ৫৫-৬০% আমিষ থাকে। তাই ফিশমিলের তাই খাদ্যের রূপান্তর হার অনেক বেশী। প্রাণীজ খাদ্যের মধ্যে ফিশমিল উত্তম। এটি গুড়া আকারে পাওয়া যায়। বর্ণ মেটে বা বাদামী। গন্ধ দ্বারা সহজেই চেনা যায়।
  • পুকুরে এক স্থানে সব খাদ্য প্রয়োগ করা ঠিক নয়। তাতে খাদ্যগ্রহণে অধিক প্রতিযোগীতা সৃষ্টি হয়। খাদ্য একই সময়ে বেশ কয়েকটি স্থানে দেওয়া উচিত। একই স্থানে দীর্ঘদিন খাদ্য দেওয়া হলে অব্যবহৃত খাদ্যকণা পঁচে উক্ত স্থানে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হতে পারে।
  • পোনা মজুদের পরের দিন থেকে দৈহিক ওজনের ২% হারে সপ্তাহে ৬ দিন দিতে হবে।
  • খাদ্য প্রয়োগের থেকে মোট ওজন থেকে সিলভার কার্প এবং কাতলার জীবনভর (Biomass) বাদ দেওয়া যেতে পারে তবে সে ক্ষেত্রে পুকুরে প্রয়োজনীয় মাত্রায় Plankton population  থাকতে হবে। উল্লেখ্য খাদ্য তালিকায় এদের রাখলে উৎপাদন অনেক গুনে বেড়ে যায়।
  • খৈল সমপরিমাণ পানি দিয়ে কমপক্ষে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পড়ে চালের কুঁড়া অথবা গমের ভূষির সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে বল বানিয়ে ফিডিং ট্রেতে পানির ২ ফুট নিচে প্রত্যেক দিন একই সময় সকাল ৯টায় এবং বিকাল ৩টায় একই স্থানে দিতে হবে।
  • প্রতিদিন একই সময়ে একই জায়গায় খাদ্যদানিতে খাবার প্রয়োগ করলে মাছ ঐ নিদিষ্ট সময়ে নিদিষ্ট জায়গায় খাবার খেতে অভ্যাস্ত হয়ে পরে এতে খাবারের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। তাই প্রতিদিন একই সময়ে একই জায়গায় খাবার প্রয়োগ করা উচিত।
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes