শুক্রবার , 19 জুলাই 2019

মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধিতে ফসলক্রমের ভূমিকা

গাছের বৃদ্ধির জন্য ১৬ প্রকার খাদ্য উপাদান প্রয়োজন । সব গাছ সব খাদ্য সমান পরিমাণে গ্রহণ করে না । কোন কোন গাছ মাটির উপরিস্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে আবার কোন কোন গাছ মাটির নীচের স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে । ফলে জমিতে পরপর একই ফসল বা একই জাতীয় ফসল চাষ করলে মাটির নিদিষ্ট স্তরে কতকগুলো খাদ্য উপাদানের অভাব পড়ে কিন্তু অন্য স্তরে ঐ খাদ্য উপাদানগুলো বেশী পরিমাণে থাকে যার জন্য নষ্ট হয়ে যায় । তাই বৎসরের বিভিন্ন সময়ে জমিতে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করা প্রয়োজন । তাতে করে অল্প সার খরচ করে আমরা বেশ ফলন পেতে পারি ।

ফসল ক্রম কাকে বলে

বৎসরের বিভিন্ন ঋতুতে একই ফসল বা একই প্রকার ফসল চাষ না করে বিভিন্ন প্রকার ফসল চাষ করাকে ফসলক্রম বলে ।
যেমন-আমন ধান চাষ করার পর আবার বোরো ধান চাষ না করে কোন রবিশস্য চাষ করা ।

ফসলক্রমের উপকারিতা
ফসলক্রমে সবুজ সারের চাষ অর্ন্তভূক্ত করা যায় ফলে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়ঃ-
অগভীর মূল বজাতীয় ফসল যেমন ধান মাটির ডপরিস্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে । পরপর এই জাতীয় ফসল চাষ করলে উপরিস্তরে খাদ্যোপাদানের অভাব গড়ে কিন্তু নীচের স্তরে খাদ্যোপাদান বেশী থাকে । সেরুপ গভীর মুল বিশিষ্ট ফসল যেমন বেগুন , পাট ইত্যাদি চাষ করলে মাটির উপরিস্তরে খাদ্যোপাদাদ বেশী থাকে । ফলে সারের অপচয় ঘটে । কিন্তু ফলসক্রমে অবলম্বন করলে তা হতে পারে না ।

বিভিন্ন প্রকার ফসলের বিভিন্ন প্রকার উপাদানের চাহিদা বেশী থাকে । যেমন পাতাজাতীয় শাকসব্জি মাটি হতে বেশ পরিমাণে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে আবার মূল জাতীয় ফসল বেশী পরিমাণে পটাশিয়াম গ্রহণ করে । ফসলক্রমে অবলম্বন করলে মাটিতে খাদ্যোপাদানের সমতা রক্ষা হয় ।

যে সকল ফসলের বেশী পরিমাণে চাষ প্রয়োজন যেমনঃ মূলা,তুলা ইত্যাদির পর যে সকল ফসলের কম চাষ দরকার যেমন – কাউন,ভুট্রো ইত্যাদির চাষ করলে কম ব্যয়ে ফসল উৎপাদন করা যায় ।

নির্দিষ্ট আগাছা নিদিষ্ট ফসলের সাথে জন্মে । যেমন ধানের জমিতে শ্যামা জাতীয় আগাছা জন্মে কিন্তু তা রবিশস্যের জমিতে জন্মে না । তাই ফসলক্রমে অবলম্বন করলে যেহেতু একই ফসল বারবার জন্মন্যে হয় না ফলে নিদিষ্ট আগাছা জমিতে পারে না ফলে আগাছার উপদ্রব কমে যায় ।

ফসলক্রম অবলম্বন করলে বিভিন্ন প্রকার রোগ পোকা মাকড়ের আক্রমন কমে যায় ।

ফসলক্রম অবলম্বন করলে প্রায় সারা ববৎসর জমিতে ফসল থাকে । ফলে জমির উপরিস্তরে ক্ষয় হয় না তাতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় না , ভূমি ক্ষয় কমে যায় এবং সাথে সাথে লবণাক্ততা কমে যায় ।

ফসলক্রমের মধ্যে লবণাক্ততা সহ্যকারী ফসল রাখার ব্যবস্থা থাকে । ফলে যে মৌসুমে লবণাক্ততা বেশী যেমন অগ্রায়ণ -বৈশাখ মাসে লবণাক্ততা সহ্যকারী ফসল যেমন তিল,গম ইত্যাদি আবাদ করা যায় । ফলে কৃষক ভাইরা সারা বৎসর ফসল পেয়ে থাকে ।

ফসলক্রম অবলম্বন করলে কৃষক ভাইরা বিভিন্ন প্রকার ফসল পায় যেমন- নিজের খাদ্যের জন্য ধান,অর্থের জনা পাট,গরুর খাবার হিসাবে ভুট্রো ইত্যাদি ।

ফসলক্রমের বিভিন্ন ফসল নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়
বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিবেচনা করে ফসলক্রমের ফসল নির্বাচন করা দরকার যেমন –
• মাটি – জমির মাটি ঐ ফসল উৎপাদনের উপযোগী কিনা ।
• পানি – ফসল উৎপাদনের জন্য যে পানি প্রয়োজন তা পাওয়া যাবে কিনা ।
• জলবায়ু- যে ফসল চাষ করতে চাই তা সে বজলবায়ুতে হবে কিনা ।
• বাজার- ফসল উৎপাদন করলে তা বাজারে বিক্রয় হবে কিনা ।
• পরপর একই জাতীয় ফসল চাষ যাতে না হয় তার দিকে নজর রাখতে হবে ।
• অগভীর মূল ফসলের পর গভীর মুল ফসল চাষ করতে হবে ।
• ফসলক্রমে সবুজ সার জাতীয় ফসল রাখতে হবে ।
• কৃষকের খাদ্যের চাহিদা ও অর্থের চাহিদা পুরন হয় সেইভাবে ফসল নির্বাচন করতে হবে । সরিষা চাষ করে কৃষক অর্থ পারে তাপর আউশ ধান চাষ করে খাদ্য পাবে ।
• পশু খাদ্য পাওয়া যায় এমন ফসল ফলসক্রমে থাকা দরকার ।
• বেশী সেচ লাগে এমন ফসলের পর কম সেচ লাগে এরুপ ফসল চাষ করা দরকার ।

সর্বোপরি ফসলক্রমে অবলম্বনে জমির উর্বরতা যেমন রক্ষা করা যায় তেমনি বিভিন্ন প্রকার আগাছা,রোগ পোকা মাকড়ের হাত হতেও ফসল রক্ষা পায় । আবার প্রয়োজন মতো সারা বৎসর ফসল ও অর্থ দুই পাওয়া যায় ।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes